ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্য প্রদানকালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের সেই উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক মানুষের কৃষি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে ঢাকা শহরের বাসিন্দারাও খাল খননের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে একের পর এক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে জলাবদ্ধতাসহ নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে মনে হয়েছে, আগের তুলনায় সবুজের সমারোহ অনেক কমে গেছে। মনে হচ্ছে ঢাকার সবকিছু কেমন যেন শুকনো ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি নার্সারিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই বনায়ন পরিকল্পনা দেশব্যাপী কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনীতির সংস্কৃতি পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রবাসে থাকাকালে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা শুনেছিলেন, ফিরে এসে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু দেখছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে বিরোধীদলের সমালোচনা একটি স্বাভাবিক চর্চা হলেও এবার সেই চর্চায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংকট সমাধানে কথা বলতে হবে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনেও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, পাবলিক বা গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে পারলে যানজট সমস্যা অনেকটা সমাধান করা সম্ভব। মেট্রোরেলকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তিনি বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবনা দেন। তার মতে, বনানী ও মোহাম্মদপুরের মতো বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকা থেকে মনোরেল চালু করে সেগুলোকে মেট্রোরেলের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে ট্রাফিক সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়েও তিনি তার দলের ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রীড়াকে তারা একটি পেশাদার অবস্থানে নিয়ে যেতে চান। অন্যান্য পেশার জন্য যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেয়া হয়, তেমনিভাবে ভবিষ্যতে পেশাদার ফুটবলার বা খেলোয়াড় তৈরি করা হবে। এজন্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথাও জানান তিনি। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে যেকোনো একটি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঠিক একইভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। মেধা ও মননের বিকাশে এই উদ্যোগগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিবিসি/এএমটি