আন্তর্জাতিক, ভারত

ক্ষমতায় বসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বুলডোজার তাণ্ডব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সরকারি জায়গা দখল ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। কলকাতা, হাওড়া ও শিয়ালদহসহ বিভিন্ন এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতিতে হকার, ছোট ব্যবসায়ী ও অবৈধ স্থাপনায় বসবাসকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এটি রাজ্যজুড়ে অবৈধ দখল ও নির্মাণবিরোধী বড় অভিযানের শুরু মাত্র; সরকারি জমি দখলের কোনো ঘটনাই বরদাশত করা হবে না। বিজেপির অভিযোগ, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

 

সম্প্রতি এই উচ্ছেদ অভিযানের মাত্রা আরও জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) হাওড়া পৌরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে দোতলার অনুমোদনে তৈরি একটি পাঁচতলা অবৈধ ভবন ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। এর আগে শনিবার ( ১৬ মে) গভীর রাত থেকে রবিবার  (১৭ মে) ভোর পর্যন্ত হাওড়া ও শিয়ালদহ রেলস্টেশন এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। আরপিএফ, জিআরপি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে হাওড়ায় প্রায় ১৫০টি দোকান ও ২০০ হকার এবং শিয়ালদহে প্ল্যাটফর্ম এলাকা থেকে প্রায় ২৫০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। দিলীপ ঘোষ জানান, স্টেশনগুলোকে জঞ্জালমুক্ত করে রেলওয়ে তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করছে।

 

কলকাতার পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, এসপ্ল্যানেড, তোপসিয়া ও বড়বাজারের মতো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ দখল ও নির্মাণ নগর ব্যবস্থাপনায় বড় সমস্যা তৈরি করে আসছে। গত ১২ মে তোপসিয়া-তিলজলা এলাকায় একটি অবৈধ চামড়ার কারখানায় আগুনে দুজনের মৃত্যুর পর সেখানে পুলিশ ও সিআরপিএফের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। কলকাতা পৌর করপোরেশন (কেএমসি) ইতোমধ্যে তোপসিয়া-তিলজলা, বড়বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকাকে বিপুল অবৈধ নির্মাণের কারণে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

 

তবে এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। উচ্ছেদের প্রতিবাদে রবিবার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ১০ জন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য আহত হন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী আগামী ২২ জুন পর্যন্ত তোপসিয়া-তিলজলা এলাকায় নতুন উচ্ছেদে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এর আগে ব্রেস ব্রিজ স্টেশন এলাকায় বস্তি উচ্ছেদের চেষ্টাও হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে স্থগিত হয়।

 

হঠাৎ এমন উচ্ছেদে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক দশক ধরে ব্যবসা করা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়াই রাতের অন্ধকারে তাদের দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। সব হারিয়ে পথে বসা এসব ব্যবসায়ী এখন পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন। অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করলে তাদের সামনে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। এদিকে, বিকল্প ব্যবস্থা ও নোটিশ ছাড়া এমন উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন