রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগা যেন প্রতিবছরের নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
গত এক দশকে প্রায় প্রতি বছরই একাধিকবার আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়েছে এই বস্তি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও এখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল।
গেল বছরের শেষদিকেও একাধিকবার আগুনের ঘটনা ঘটে স্বল্প আয়ের মানুষের এই আশ্রয়স্থলে। বছর বছর অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও, কড়াইলবাসীর আগুনের ট্র্যাজেডি আর ভাগ্য বদলায় না।
বিটিসিএল-এর মালিকানাধীন ৯৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বস্তিতে ১০ হাজারেরও বেশি ঘর রয়েছে। কাঠ, টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এসব ঘর এবং সরু পথের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস বরাবরই অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। তবে বস্তির বাসিন্দা ও স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, বারবার আগুন লাগার পেছনে নাশকতাও দায়ী।
প্রতিবার আগুনের ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং সুপারিশমালা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সুপারিশ আর আলোর মুখ দেখে না। আগুনের লেলিহান শিখা বারবার গ্রাস করে কড়াইলবাসীর স্বপ্ন।
২০১২ সালে আদালতের আদেশে বিটিসিএল জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও হাজারো বস্তিবাসীর প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে আবারও নতুন করে ঘর বাঁধার সংগ্রামে নামেন এখানকার বাসিন্দারা।
ডিবিসি/এসএফএল