দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। সকাল গড়ালেই মাইকের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে ভোটারদের, আর বিকেল নামলেই বাজারঘাট, চায়ের দোকান ও পাহাড়ি মোড়গুলো পরিণত হয় সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নানা সমীকরণ সামনে আসছে ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে। এখানে বড় দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে সমান তালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনে এবার মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠের দৌড়ঝাঁপ আর প্রচারণায় মূলত আলোচনায় আছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা প্রত্যেকেই ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
সংগঠনের শক্তি কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া।
অন্যদিকে, জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী।
দলীয় প্রতীকের বাইরে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও সমীরণ দেওয়ান। তারা পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
খাগড়াছড়ি জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বাঙালি জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতির ভিড়ে ভোটারদের মাঝেও চলছে পাহাড়ের প্রকৃত অভিভাবক বেছে নেওয়ার নীরব ভাবনা।
এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
পাহাড়, অরণ্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই জনপদে শেষ পর্যন্ত কার গলায় জয়ের মালা উঠবে এবং কার হাতে এই অঞ্চলকে নিরাপদ মনে করবেন ভোটাররা, তা দেখার অপেক্ষায় এখন খাগড়াছড়িবাসী।
ডিবিসি/এএমটি