খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় দৃশ্যমান হচ্ছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ত্রাতা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। বানভাসি অসহায় মানুষের সাহায্যে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে এখন সমন্বিতভাবে চলছে ব্যাপক ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।
দুর্যোগের এই সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের উদ্যোগে জেলার মহালছড়ি, পানছড়ি এবং মাটিরাঙ্গাসহ বন্যা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেনাসদস্যদের এই মানবিক উদ্যোগ দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), জেলা বিএনপি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি একযোগে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। এসব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে নিয়মিত খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দীঘিনালার ছোটমেরুং এবং মহালছড়ির কিছু নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। পানি কমার সাথে সাথে জেলার অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা ফুটে উঠছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বন্যায় জেলার অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা এবং বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য পুকুর তলিয়ে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা।
ডিবিসি/পিআরএএন