ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভা ও লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিভক্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এই ক্ষোভ এখন প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো লেবার এমপির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। যদিও এই প্রশ্নে শাবানা মাহমুদ বর্তমানে মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছেন। তবে অস্থিরতা সামাল দিতে ইতোমধ্যে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ছয়জন মন্ত্রীসহকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদত্যাগকারী ও অপসারিত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) জো মরিস অন্যতম। পদত্যাগের পর মরিস মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন’।
এছাড়া উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড, ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রীর পিপিএস নওশাবাহ খান এবং পরিবেশমন্ত্রীর পিপিএস টম রুটল্যান্ডও পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে যোগ দিয়েছেন পেনশনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিপিএস-রাও। দলীয় এই চাপের মুখেও স্টারমার পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ‘সন্দেহবাদীদের ভুল প্রমাণ করবেন’। সরকার কিছু ভুল করলেও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো তিনি সঠিকভাবে নিয়েছেন বলে দাবি তার।
তবে স্টারমারের এই অবস্থানে শান্ত হচ্ছে না পরিস্থিতি। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থক এবং দলের ডানপন্থি অংশ থেকেও দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারানোর পর থেকেই এই সংকটের শুরু। একইসঙ্গে রিফর্ম ইউকে-র উত্থান, গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ওয়েলসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি স্কটিশ পার্লামেন্টে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল দলটিকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। এই টালমাটাল অবস্থায় সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডিবিসি/এফএইচআর