সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া নথিপত্রের মাধ্যমে। খাসোগি হত্যার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এপস্টেইন এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নিয়ে গোপন বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন, যা সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে এপস্টেইন এবং আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। সেখানে এপস্টেইন সন্দেহ প্রকাশ করেন, খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে হয়তো সুকৌশলে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বা এমবিজেড যদি সৌদি যুবরাজকে এই ঘটনায় জড়িয়ে ফাঁসিয়ে দিয়ে থাকেন, তবে তিনি মোটেও অবাক হবেন না।
২০১৮ সালের ১২ অক্টোবরের ওই কথোপকথনে আনাস আল রশিদ খাসোগি হত্যাকাণ্ডকে বীভৎস বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। জবাবে এপস্টেইন জানান, একটি পরোক্ষ সূত্র তাকে নিশ্চিত করেছে যে হত্যা অভিযানে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং সেই ফোন হ্যাক করে তৃতীয় কোনো পক্ষ সেই ফুটেজ হাতিয়ে নিয়েছে। আল রশিদ পাল্টা মন্তব্যে জানান, খাসোগি হত্যার তথ্যগুলো অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এবং খুব দ্রুত ফাঁস করা হয়েছে, যা সন্দেহের উদ্রেক করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি একটি বড় মিডিয়া যুদ্ধে পরিণত হয়েছে এবং সত্য প্রকাশ না করলে সৌদি আরব তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারাতে পারে।
ঘটনার পরের দিন, অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর, এপস্টেইন বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান খাসোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি না অথবা এটি কোনো ব্যর্থ গোপন অভিযান বা কারও পাতা ফাঁদ ছিল কি না। নথিতে আরও দেখা যায়, সেই রাতেই এপস্টেইনকে একটি বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের অনুরোধ করেছেন, যা পরদিন সকালেই হওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদনের জন্য সৌদি যুবরাজকেই দায়ী করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় প্রকাশিত এই বিপুল নথিপত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, ইলন মাস্ক, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। তবে খাসোগি হত্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী নেতার সম্পর্ক নিয়ে এপস্টেইনের এই কথোপকথন পুরো ঘটনাকে এক নতুন রহস্যের চাদরে জড়িয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এফএইচআর