আইন ও কানুন

খুনসহ ডাকাতি মামলায় ১০ বছরের সাজায় কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

প্রায় ২৪ বছর আগে কিশোরগঞ্জে এক দোকানে ডাকাতির সময় দুজনকে হত্যার দায়ে ১০ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে গেলেন ১০৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তিনি। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর বলেন, অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সে আবেদন নামঞ্জুর করেন।


উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।


এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন।


এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।


রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। একই সঙ্গে তাদের ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামের এক আসামি মারা যান।


পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। এতে নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারিক আদালতে নুর মোহাম্মদ আত্মসমর্পণ করলে আপিলের শর্তে তার পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয় ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করছি।’


শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


এ মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন তিনি। রায় ঘোষণার সময়ও পলাতক ছিলেন নুর মোহাম্মদ।


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন