আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং এটি সংস্কার ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। সরকার সব দলের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে চাইছি, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে করা হচ্ছে। আমরা কোনো ভানভনিতা করছি না। আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য সমান— সকলেই যেন সংস্কারের পক্ষে থাকেন।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে অনুষ্ঠিত সব গণভোটে সরকার সবসময় একটি পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হয় না।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনটি মূল কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি— সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। আমরা সর্বদা সংস্কারের পক্ষে অ্যাডভোকেসি করে আসছি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন এবং জুলাই চার্টার প্রণয়ন— সবই সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে হয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ্য সংস্কার— যা সবার ক্ষেত্রে একই। তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই-তিন দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘না’ প্রচারণা বেড়ে গেছে। কিন্তু কাউকে এই প্রচারণা থেকে বিরত রাখার কোনো অধিকার সরকারের নেই। এটি মানুষের বিবেকের বিষয়।’
আইন উপদেষ্টা জানান, গণভোটে সরকারের উদ্যোগগুলো সংবিধান ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত। সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে সুরক্ষা থাকায় কেউ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে একে আইনগত চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।
ডিবিসি/কেএলডি