সংবিধান সংস্কার বা 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী প্রকাশ করা হয়।
নতুন হিসেবে দেখা গেছে, আগের ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় 'হ্যাঁ' ও 'না'-উভয় ক্ষেত্রেই ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল যা ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে এই সংশোধন আনা হয়েছে। ভোটের ব্যবধান ও পরিসংখ্যানের পরিবর্তন সংশোধিত গেজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের তুলনায় মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি।
প্রাথমিক ফলাফলে 'হ্যাঁ' ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি। সংশোধিত ফলাফলে তা ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। 'না' ভোটে আগের ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমে বর্তমান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি।
বৈধ ভোট কমলেও বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। সার্বিক চিত্র সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
নির্বাচন কমিশন এই বিশাল অংকের ভোট কমে যাওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা আইনি কারণ উল্লেখ করেনি। বিজ্ঞপ্তিতে কেবল জানানো হয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই জনস্বার্থে এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনে 'জুলাই জাতীয় সনদ' ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের ওপর জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল।
ডিবিসি/এসএফএল