উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে সাধারণ কোনো প্রাণী নয়, বরং মায়ের মর্যাদায় দেখা হয়। গত সোমবার (১ জুন) বিজনৌরে একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গরুর প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান না দেখাতে তাদের অনুসারীদের সতর্ক করেন।
সম্প্রতি কিছু ধর্মীয় নেতা ও গণআন্দোলনে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এই দাবি উত্থাপনকারী মুসলিম আলেম ও সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একজন সন্তানকে তার মাকে সম্মান করতে আলাদা করে শেখাতে হয় না; মানুষ মা এবং গরু, দুটিকেই একইভাবে শ্রদ্ধা করে। যারা গরুকে শুধু পশু বলে, তারা মূলত গো-হত্যা সমর্থন করে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, উত্তর প্রদেশে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি দিয়ে কুরবানির ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এটি থেকে বিরত থাকতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখা উচিত। পূর্ববর্তী সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, আগে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে রাম নবমী, জন্মাষ্টমী, দুর্গা পূজা ও কাঁওয়ার যাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে বাধা সৃষ্টি হতো এবং নারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
উক্ত কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবারের পাশাপাশি প্রাক্তন সেনাসদস্য ও ইজারাধারীদের মধ্যে জমির মালিকানা সনদ বিতরণ করেন। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সনদের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন এবং বাকি যোগ্য পরিবারগুলোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এই প্রসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বিভাজনের সময় ধর্মীয় উগ্রতার কারণে এসব পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল হয়ে যায় এবং হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। বহু বছর পর এখন তাদের উত্তরসূরিরা জমির মালিকানা পাচ্ছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে ধর্মীয় নেতারা কেন কথা বলেননি। কিছু ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় নীরব ছিলেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাদের উচিত ছিল পাকিস্তানকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা এবং ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাস্তুচ্যুত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে এই আইনটির বিরোধিতা করেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এফএইচআর