ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক এক সন্দেহভাজন চোরের সঙ্গে পুলিশের এক এএসআই এর কথিত যোগাযোগের তথ্য সামনে আসায় এলাকায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে সন্দেহভাজন আলাল মিয়ার বাড়ি থেকে গরুটি উদ্ধার করেন। এ সময় আলাল মিয়া চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তিনি পাশের ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক আলাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হলে তাতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ফোনটিতে ইমো অ্যাপে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কল রেকর্ডের তথ্য মিলেছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, আলাল মিয়া দাবি করেছেন তিনি পূর্বে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময় এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অর্থ দিতেন এবং বিনিময়ে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা পেতেন। সর্বশেষ গরু চুরির ঘটনাতেও আগাম যোগাযোগ হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি। তার সঙ্গে কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিসি/এফএইচআর