মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

গরু পশু নয়-আমাদের মা, আলাদা করে স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গরুকে যারা সাধারণ পশু বলে মনে করে, তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে গরুকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম ধর্মগুরুদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের অনুসারীদের গরুর প্রতি কোনো ধরনের অশ্রদ্ধা না দেখানোর বিষয়ে সতর্ক করেন।

সোমবার বিজনরে একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে বেশ কয়েকজন মুসলিম ধর্মগুরু ও নেতার বক্তব্য এবং গণবিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্তানকে তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য আলাদা করে বলে দিতে হয় না, কোনো স্বীকৃতিরও প্রয়োজন হয় না। মানুষ তার জন্মদাত্রী মা এবং গো-মাতা-উভয়কেই সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখে। যারা গরুকে স্রেফ একটি পশু বলে মনে করে, তারাই মূলত গো-হত্যাকে সমর্থন করে।


পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানানোর আড়ালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গরুর ছবি পোস্ট করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের চর্চা বন্ধে সমাজকে নিরুৎসাহিত করতে তিনি ধর্মগুরুদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, উত্তর প্রদেশে গো-হত্যার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া ১,৬৪৫টি পরিবার, প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং লিজগ্রহীতাদের হাতে জমির মালিকানা শংসাপত্র (পট্টা) তুলে দেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দুর্দশার কথা উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, দেশভাগের সময় ধর্মীয় উগ্রপন্থার কারণে এদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং নির্বিচারে নিরীহ হিন্দু ও শিখদের হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর আজ সেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর চতুর্থ প্রজন্ম অবশেষে তাদের জমির মালিকানা অধিকার ফিরে পাচ্ছে।


সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশংসাপত্র বিতরণের ফলে ১,৬৪৫টি পরিবারের প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বাকি থাকা যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।


পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পক্ষে মৌলভি ও মাওলানা সাহেবরা কেন মুখ খোলেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা যদি এই ভুক্তভোগীদের প্রতি সামান্যতম সহানুভূতি দেখাতেন এবং তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতেন, তবে তা তাদের প্রকৃত মানবিকতাকে প্রমাণ করত।


তিনি অভিযোগ করেন, এই ধর্মীয় নেতারা স্পষ্টতই দ্বিমুখী নীতি বা দ্বিচারিতা বজায় রাখছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর হওয়া সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনায় অনেক ধর্মীয় নেতাই সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তাদের উচিত ছিল প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে ভারতের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা এবং শত্রুভাবাপন্ন দেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সমস্ত পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো।


তিনি অতীতের আইনশৃঙ্খলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এর আগে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে রামনবমী, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপূজা এবং কাঁওয়ার যাত্রার মতো উৎসবগুলো পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো। সে সময় নারী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।


সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন