পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান দাবদাহ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। প্রখর রোদের তাপে গলতে শুরু করেছে পিচঢালা পথ, ফুলে উঠছে রেললাইন। তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থা জার্মানির, যেখানে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশটির ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।
জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (ডিডব্লিউডি)-র অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পূর্ব জার্মানির ড্রুইটজ স্টেশনে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মাত্র একদিন আগে দক্ষিণ-পশ্চিমের সারব্রুকেনে স্থাপিত ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পুরনো রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্মানির প্রায় সব অঞ্চলের জন্য তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে জরুরিভিত্তিতে পানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রচণ্ড তাপের কারণে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। রাস্তা বেঁকে যাওয়া এবং রেললাইন ফুলে ওঠার মতো ঘটনা ঘটছে। সূর্যের তীব্র তাপ এবং দাবানল থেকে সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে সিগন্যাল, রেললাইন ও ওভারহেড তারগুলো মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ও ঝুঁকি কমাতে জার্মানির জাতীয় রেল সংস্থা 'ডয়চে বান' যাত্রীদের আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত কোনো চার্জ ছাড়াই দূরপাল্লার ভ্রমণের বুকিং বাতিলের সুযোগ করে দিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রধান গণসেবা প্রদানকারী সংস্থাও যান চলাচল কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
জার্মানির পাশাপাশি পুরো পশ্চিম ইউরোপই এই তাপপ্রবাহে পুড়ছে এবং দাবদাহটি ক্রমশ পোল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, 'ওমেগা ব্লক' নামক একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গরম বাতাসের একটি বিশাল বলয় দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে এবং তাপমাত্রা মৌসুমী গড়ের চেয়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এই মাত্রার তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল। তবে স্বস্তির খবর হলো, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী রবিবার নাগাদ প্রবল বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশটিতে চলমান এই তীব্র গরম কিছুটা কমতে শুরু করবে।
ডিবিসি/এমএনকে