জেলার সংবাদ

গাইবান্ধার মৃত্যুর ২ বছর পর বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০২৪ সালে মারা যাওয়া মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিবাহের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে মতিয়ার রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। পরে মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেন।

 

মতিয়ার রহমানের বাবা হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিবাহের নিকাহনামার নকল কপি প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে যান। পুরোনো রেজিস্ট্রেশন থেকে নকল কপি দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী পুনরায় ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন হোসেন আলী।

 

তিনি বলেন, আমার ছেলে ২০২৪ সালে মারা গেছে। শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে পারিবারিকভাবেই হয়েছিল। আমি শুধু আগের বিয়ের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। নিহতের বাবা হোসেন আলী ঘটনার তদন্ত করে কাজীর মূল রেজিস্টার, পূর্বের বিবাহের তথ্য এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্টের রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

এদিকে, একই বিবাহের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট দুই ভিন্ন তারিখে নিকাহনামা বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি থাকার অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই তা অস্বীকার করে বলেন, নিহত মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

এ বিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মতিয়ার ২০২৪ সালে মারা গিয়েছে এটা আমি জানি। পরিষদ হতে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর প্রত্যয়ন পত্রও নিয়ে গেছে। এ ব্যপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, এমন কাজের কোন সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন