গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বা 'পিস প্ল্যান' মেনেই অবশেষে গঠিত হয়েছে গাজার নতুন সরকার।
গাজার এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপ’ বা এনসিএজি (NCAG)। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রস্তাবিত ২০টি বিশেষ পয়েন্ট বা শর্তের ওপর ভিত্তি করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই এনসিএজি (NCAG) সরকারের নির্বাহী কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ। তিনি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং একসময় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফাত্তাহ বা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি (পিএ) এর নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিটির প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ ছাড়া বাকি ১৪ জন সদস্যের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, এই সদস্যরা সকলেই গাজার স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী।
এনসিএজি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ মিসর ও কাতার। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজার চূড়ান্ত শাসনক্ষমতা বা নীতিনির্ধারণী কর্তৃত্ব থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামক একটি বিশেষ পরিষদের হাতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদের প্রধান হিসেবে থাকবেন এবং তার নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ীই এনসিএজি সরকার পরিচালিত হবে।
‘বোর্ড অব পিস’ এর নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে মিসরে অবস্থান করবেন বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ। ইতিমধ্যেই এনসিএজি প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ কায়রোতে নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এনসিএজি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এর নিম্নপর্যায়ে পশ্চিম তীরের প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি (পিএ) সরকারের প্রভাব বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ) গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। গত দুই বছরের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত এই শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন (যা গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় আলোচিত হয়)। ইসরায়েল এবং হামাস উভয় পক্ষ এই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় তা কার্যকর হতে শুরু করে। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি মোট তিনটি স্তরে বিভক্ত। পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়টি ১০ অক্টোবর শুরু হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বর্তমানে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় এই টেকনোক্র্যাট সরকার (এনসিএজি) গঠন এবং হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ডিবিসি/এএমটি