রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
গাজার চিকিৎসকরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারদের একটি তাবু শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণের খান ইউনিসে আরেকটি হামলায় পাঁচজন এবং উত্তরাঞ্চলে গুলিতে আরও একজন নিহত হন। এছাড়া, গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই ঘটনাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর নতুন "গণহত্যা" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস'-এর প্রথম বৈঠকের কয়েক দিন আগে এটি যুদ্ধবিরতির একটি গুরুতর লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা এই হামলাকে "সুনির্দিষ্ট" এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, হামাস বারবার অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা জানান, বেইত হনুন এলাকায় যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত "ইয়েলো লাইন" বা হলুদ রেখা অতিক্রম করে টানেল থেকে সশস্ত্র জঙ্গিরা বের হয়ে আসার পর তারা পাল্টা হামলা শুরু করে।
আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের নতুন আন্তর্জাতিক 'বোর্ড অফ পিস'-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে গাজার জন্য বহু-বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা। হামাস মুখপাত্র এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ৭২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বর্তমান গাজা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০০ ফিলিস্তিনি এবং হামাসের হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এনএসএফ