আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ৯ বছর বয়সী শিশু নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

এর পাশাপাশি, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে উপত্যকায় খুচরা যন্ত্রাংশ ও জ্বালানি প্রবেশ করতে না পারায় সেখানকার অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাতভর উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক স্থাপনায় কামান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে হামলা চালিয়েছে। মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে এন-নুওয়াইরি পাহাড়ি এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ৯ বছর বয়সী তালা জুমা আবু মাতার নিহত হয়েছে।

 

অন্যদিকে, আগের হামলায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ মজিদ আবু সুনেইদা এবং মাহমুদ মোহাম্মদ তৌফিক মুসলিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়াও গাজা শহরের সাবরা এলাকায় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং খান ইউনিস, জাবালিয়া, তুফাহ ও রাফাহর মাওয়াসি এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে।

 

এদিকে অবরুদ্ধ গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কতা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান অবরোধের কারণে টায়ার, ব্যাটারি, ইঞ্জিন অয়েল এবং খুচরা যন্ত্রাংশ প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তাদের ব্যবহৃত ৭০% যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে। 

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৮২টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৩৯টি সম্পূর্ণ অচল এবং ১৭টির জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। যন্ত্রাংশের অভাবে কারিগরি দলগুলোর প্রতি মাসে প্রায় ২০,০০০ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী পরিবহনের কাজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, গাজায় যন্ত্রাংশ প্রবেশে বাধা দেওয়ার অর্থ হলো জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থামিয়ে দেওয়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য এক মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

 

২০২৫ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, গাজা উপত্যকায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা চলছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,০৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ৩,৫৩৫ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩,২২১ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৩,৬৪৩ জন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং জরুরি ভিত্তিতে ৬০টি নতুন ডিজেল চালিত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র: আনাদোলু

 

ডিবিসি/এমএনকে
 

আরও পড়ুন