আন্তর্জাতিক

গাজায় বৃষ্টির ঢলে তলিয়ে গেছে তাবু, ইসরায়েলি হামলায় আরও ২ ফিলিস্তিনি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চরম অব্যবস্থাপনা আর নড়বড়ে আশ্রয়ে শীতের প্রকোপ মোকাবিলা করা গাজাবাসীর জীবনে নতুন দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অস্থায়ী তাবু। একদিকে প্রকৃতির রুদ্ররূপ, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অবরুদ্ধ এই জনপদ।

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে আঘাত হানা এই শীতকালীন ঝড়ে গাজার সিভিল ডিফেন্স ইউনিটগুলো রাতভর অসংখ্য জরুরি বার্তা পেয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মাওয়াসি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবারের তাবু পানিতে ভেসে গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।


একই অবস্থা উত্তর গাজারও। গাজা সিটির রিমাল এলাকা এবং বন্দর সংলগ্ন নিচু অঞ্চলগুলো বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রিমাল এলাকার বাসিন্দারা তাদের ভিজে যাওয়া তাবু ও আসবাবপত্র রক্ষায় আপ্রাণ লড়াই করছেন।


প্রকৃতির এই দুর্যোগের মধ্যেই উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় এক শিশুসহ অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে একটি তথাকথিত "যুদ্ধবিরতি" চুক্তি হলেও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে চলেছে।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭২,০০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,০০০-এর বেশি মানুষ।


ফ্লিমসি বা পাতলা কাপড়ের তৈরি তাবুতে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার এখন হাইপোথার্মিয়া এবং পানিবাহিত রোগের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক গাজার এই অবস্থাকে "বিপর্যয়কর" বলে বর্ণনা করেছেন।


গত ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে চলা শীতকালীন ঝড়ে অসংখ্য তাবু উড়ে গেছে এবং ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভবনগুলো ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তীব্র শীতে তাবুতেই প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন।


এরই মধ্যে ইসরায়েল মানবিক সহায়তা এবং অস্থায়ী ঘর তৈরির সরঞ্জাম (তাবু ও মোবাইল হোম) প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। হাজার হাজার অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না পেয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।


সূত্র: আল জাজিরা


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন