গাজায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জীবন বাঁচাতে ফ্রান্স প্রায় ৪০০ টন বিশেষ খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে। একইসঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা অপসারণের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
শিশুদের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ফ্রান্সের লা হাভরে বন্দর থেকে ৩৮৩ টন খাদ্যবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এই চালানে মূলত ‘প্লাম্পিডোজ’ নামক বিশেষ পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার রয়েছে। নরম্যান্ডি ভিত্তিক কোম্পানি ‘নিউট্রিসেট’-এর তৈরি বাদাম ও গুঁড়ো দুধের মিশ্রণে প্রস্তুত এই পেস্টটি শিশুদের অপুষ্টি রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই সহায়তা গাজার ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী প্রায় ৪২,০০০ শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে, যারা বর্তমানে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
জাহাজটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে মিশরের পোর্ট সাঈদে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখান থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এই সহায়তা গাজায় পৌঁছে দেবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফ্রান্স এ পর্যন্ত ১,৩০০ টনেরও বেশি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
গাজা পরিস্থিতি ও ফ্রান্সের অবস্থান ২০২৫ সালের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও গাজায় এখনো প্রতিদিন বোমাবর্ষণ চলছে। গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জনজীবন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
ত্রাণকর্মীদের মতে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যাপ্ত ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফ্রান্স জোর দিয়ে বলেছে, জাতিসংঘ এবং এনজিওগুলো যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে গাজাজুড়ে ত্রাণ বিতরণ করতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই সব বাধা তুলে নিতে হবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, ফ্রান্স গাজার জনগণের জন্য পুরোপুরি সজাগ ও সক্রিয় রয়েছে।
তথ্যসূত্র রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল
ডিবিসি/এমইউএ