গত অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা কথিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সর্বশেষ বিভিন্ন হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে একটি বাড়িতে হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন।
আল জাজিরা আরবির সংবাদদাতা নূর খালেদের তথ্য অনুযায়ী, খান ইউনিসে আগের ইসরায়েলি হামলায় আহত আরও তিন ফিলিস্তিনি মঙ্গলবার মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন সোমবারের হামলায় আহত হয়েছিলেন এবং অপর একজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আহত হন।
এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য রাখা পুষ্টিসামগ্রীর একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস।
সংস্থাটি জানায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বড় অংশ ধসে পড়ে এবং পুষ্টিসামগ্রী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। পরে পুরো মজুতই নষ্ট হয়ে যায় এবং তা আর মানুষের ব্যবহারের উপযোগী নেই।
গুদামটি স্থানীয় মানবিক সংস্থা আরদ এল ইনসান-এর। সংস্থাটি এমএপি-এর সহযোগিতায় প্রায় ৬০টি চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করে, যেখান থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ নারী ও শিশু সেবা পেয়ে থাকে।
এইআই-এর প্রকল্প সমন্বয়ক সাহার সালেম বলেন, পুরো পুষ্টিসামগ্রীর মজুত হারানো তাদের কার্যক্রমের জন্য বড় ধাক্কা। এর ফলে বিশেষ করে শিশু ও নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত কঠিন এবং নারী ও শিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা জরুরি। সালেমের দাবি, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার দুই সহকর্মী নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।
একই দিনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, অঞ্চলটিতে জীবনধারণের মৌলিক ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিজেনের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, গাজায় থাকা প্রায় ৩৪টি অক্সিজেন স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১২টি সচল রয়েছে। আরও কোনো স্টেশন বিকল হলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তার ভাষায়, অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হলে রোগীদের মৃত্যু ঘটতে পারে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে চিকিৎসকদের সীমিত অক্সিজেন কাকে দেওয়া হবে, সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আল-বুরশ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তার মতে, যুদ্ধবিরতি রাজনৈতিক বিবৃতিতে থাকলেও গাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।
ডিবিসি/এমএনকে