আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক নাকবা দিবস বা বিপর্যয় স্মরণের দিনেই গাজা সিটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একটি আবাসিক ভবন ও বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো এই দুটি পৃথক হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ডজন খানেক মানুষ। চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের শীর্ষ নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল।


এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, তারা গত ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারীকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। তবে হামলায় হাদাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আল জাজিরাও স্বাধীনভাবে ইসরায়েলের এই দাবি যাচাই করতে পারেনি।


আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলায় তিন ফিলিস্তিনি এবং পশ্চিম গাজা সিটির রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। আনাদোলু আরও জানায়, হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


গাজায় কর্মরত আল জাজিরার প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল-খলিলি জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, হামলার পরপরই বহুতল ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।


এই সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলাটি এমন একটি সময়ে ঘটলো, যখন ফিলিস্তিনিরা তাদের নাকবা (বিপর্যয়)-এর ৭৮তম বার্ষিকী স্মরণ করছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যা প্রতি বছর ১৫ মে ফিলিস্তিনিরা গভীর শোক ও প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে স্মরণ করে।


সংবাদ প্রতিনিধি আল-খলিলি ব্যাখ্যা করেন, পশ্চিম গাজা সিটির এই এলাকাটি অত্যন্ত জনাকীর্ণ। কারণ, পূর্ব গাজা সিটিতে লাগাতার ইসরায়েলি সামরিক অভিযান থেকে বাঁচতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।


গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল রয়টার্সকে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা বা নোটিশ ছাড়াই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হওয়া ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। আমরা এখানে বিপুল সংখ্যক হতাহতের কথা বলছি, যাদের মধ্যে অনেক পুরো পরিবার রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে হাদাদ একটি বড় বাধা ছিলেন। কারণ তিনি হামাসকে নিরস্ত্র করতে এবং গাজা উপত্যকাকে নিরস্ত্রীকরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।


তবে ট্রাম্পের এই কথিত শান্তি পরিকল্পনা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা ও রক্তপাত থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


ফিলিস্তিনিদের বরাত দিয়ে সাংবাদিক আল-খলিলি বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন এই যুদ্ধবিরতি হয়তো কিছুটা স্বস্তি ও ত্রাণ নিয়ে আসবে, কিন্তু বাস্তবে এটি তাদের জন্য কেবলই নতুন নতুন ট্র্যাজেডি বয়ে আনছে।


সূত্র: আল জাজিরা


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন