গাজা উপত্যকায় তীব্র শীত এবং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রবিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিন ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়, উষ্ণ কাপড় এবং হিটিং ব্যবস্থার অভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর পরদিন সোমবার মারা যায় আরও দুই শিশু, যাদের মধ্যে একজনের বয়স চার বছর এবং অন্যজন মাত্র সাত দিন বয়সী এক নবজাতক।
চলতি শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ঠান্ডায় জমে অন্তত ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত কারণে ২১ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ১৮ জনই শিশু। এরা সবাই বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী তাবু বা জরাজীর্ণ আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছিলেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি হস্তক্ষেপ না করা হলে শিশু, অসুস্থ এবং বয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রায় দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলায় গাজার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন। অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল তাবু, ভ্রাম্যমাণ ঘর এবং ঘর গরম করার সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
গত ১০ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে ৪২,০০০-এরও বেশি তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে বিপদে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এমইউএ