ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবরুদ্ধ গাজায় চরম মানবিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটের কারণে সেখানকার পৌর পরিষেবাগুলো পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে গাজার বিশ মিলিয়ন বা ২ কোটিরও বেশি ফিলিস্তিনি এখন তীব্র পানিশূন্যতা বা গণতৃষ্ণার মুখোমুখি হতে চলেছেন।
ফিলিস্তিনি ইনফরমেশন সেন্টারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানিয়েছেন গাজা স্ট্রিপ মিউনিসিপালিটিস ইউনিয়নের উপপ্রধান আলা আল-দিন আল-বাত্তা।
আল-বাত্তা জানান, জেনারেটরগুলো সচল রাখতে আনুমানিক ৭০০টি লুব্রিকেন্টের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে গাজায় যা সরবরাহ করা হচ্ছে তা দিয়ে মাত্র ৪০টির মতো জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে লুব্রিকেন্টের দাম প্রায় ১ হাজার শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে জেনারেটরগুলো তাদের ক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশের বেশি সচল রাখতে পারছে না। তাছাড়া, গত মার্চ মাস থেকে ধ্বংসাবশেষ অপসারণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য পৌরসভাগুলো কোনো ধরনের ডিজেল বা জ্বালানি সহায়তা পায়নি বলে উল্লেখ করেন আল-বাত্তা।
জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের এই লাগাতার নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েলি কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নাগরিক সেবাগুলো স্থবির হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে, অবিলম্বে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বর্জ্য ও ময়লা পানি উপচে সড়ক এবং বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে গাজায় মারাত্মক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ভয়বহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন