দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করার পর অবশেষে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিহতের পরিসংখ্যানকে সঠিক বলে মেনে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর বরাতে ‘মিডল ইস্ট আই’ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
তবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই সংখ্যার মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া নিখোঁজ ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও রোগে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেনাবাহিনী এখন এই মোট সংখ্যার মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা আলাদা করার কাজ করছে।
এতদিন ইসরায়েল সরকার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে ভ্রান্ত ও অবিশ্বাসযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
গত বছরের (২০২৫) অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল ১,৩০০ বারের বেশি তা লঙ্ঘন করেছে এবং এই সময়ে প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই সংঘাতে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং গাজা থেকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ বিষয়ে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত পুরোপুরি মানতে হবে। বিশেষ করে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ এবং গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
ডিবিসি/এমইউএ