আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

গাজার শাসন ছাড়ছে হামাস, দায়িত্ব নিচ্ছে নতুন কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ৬ই জুলাই ২০২৬ ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটির (এনসিএজি) কাছে ছিটমহলটির শাসনভার হস্তান্তরের অংশ হিসেবে গাজা সরকার সোমবার (৬ জুলাই) তাদের জরুরি কমিটি বিলুপ্ত করার এবং এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার সরকারি শাসনব্যবস্থা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি উপদল ও রাজনৈতিক শক্তি, গোত্র ও উপজাতিদের উচ্চতর কমিটি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় দলের কাছে এই প্রস্তুতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। এ সময় জাতিসংঘের একজন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।


বিবৃতি অনুযায়ী, প্রশাসনিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সরকারি ফলো-আপ কমিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান এবং জরুরি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল খালেক আল-ফাররা তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।


গাজা সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি গাজার শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা, পুনর্গঠনে বিলম্ব, অব্যাহত অবরোধ, সীমান্ত পারাপার বন্ধ এবং ছিটমহলে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট মানবিক দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে হওয়া চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিশরের রাজধানী কায়রোতে ফিলিস্তিনি দলগুলোর মধ্যকার আলোচনায় সম্মত হওয়া একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রশাসনিক শূন্যতা রোধ এবং জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শুধুমাত্র কারিগরি ও পেশাদার বেসামরিক কর্মচারীরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীই মূলত বেসামরিক কর্মকর্তা, যারা এনসিএজি-র অধীনে কাজ করতে এবং এর সিদ্ধান্ত মেনে চলতে প্রস্তুত। একই সাথে, এনসিএজি যেন দ্রুত তাদের জাতীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এর কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।


উল্লেখ্য, এনসিএজি নিজেকে একটি অরাজনৈতিক সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, যা এই অঞ্চলের দৈনন্দিন বেসামরিক বিষয়গুলো পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। ফিলিস্তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কায়রোতে অবস্থান করে কাজ করলেও, গাজা উপত্যকার ভেতর থেকে এখনও তাদের কার্যক্রম শুরু করেনি।


এই পদক্ষেপের প্রথম ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া হিসেবে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম কান একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই পদত্যাগের ঘোষণাকে কোনো ব্যবহারিক তাৎপর্যহীন একটি প্রতারণা বলে অভিহিত করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এর সদস্যরা এখনো তাদের নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন।


এ কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, হামাস ভয় পাচ্ছে যে তাদের চুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, আর সে কারণেই তারা সময় ক্ষেপণ করছে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।


এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস, ইসরায়েলের সাথে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং এর দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী এবং বোর্ড অব পিস-এর প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ অবসানে একটি ২০ দফার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। যার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার, একটি টেকনোক্র্যাট (প্রযুক্তিবিদ) সরকার গঠন, একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।


এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপটি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। হামাস জানিয়েছে যে তারা প্রাথমিক ধাপের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করেছে, তবে ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিদিন তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের প্রাণঘাতী অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১৭৩,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন