রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ থেকে গাজা পুনর্গঠনে ১ বিলিয়ন ডলার তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে অনুদান হিসেবে দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পুনর্গঠনেও অনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। পুতিন বর্তমানে ট্রাম্পের পাঠানো আমন্ত্রণটি খতিয়ে দেখছেন, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকজন নেতার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনা ঘোষণার সময় প্রথম এই উদ্যোগের প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংঘাত নিরসনেও এই বোর্ডের কার্যপরিধি সম্প্রসারিত হবে। বোর্ডের সনদ অনুযায়ী, স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেকে ১ বিলিয়ন ডলার করে তহবিল প্রদান করতে হবে।
ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের (২২ জানুয়ারি) এক বৈঠকে পুতিন জানান, ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে রাশিয়ার ‘বিশেষ সম্পর্কের’ কারণে তিনি এই অর্থ প্রদানে আগ্রহী। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পুতিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২২ সালের শুরুর দিকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ৬১৩ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ১১ শতাংশ বা ৬৭ বিলিয়ন ডলার ছিল ডলার-ডিনোমিনেটেড সম্পদ, যা কেবল মার্কিন ভিত্তিক আমানতকারী প্রতিষ্ঠানেই রাখা সম্ভব। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিল জব্দ করেছে বলে ধারণা করা হয়, যার বেশিরভাগই ইউরোপে বিশেষ করে বেলজিয়ামের ইউরোক্লিয়ারে রয়েছে।
তবে ২০২৩ সালে গঠিত ‘রেপো’ টাস্কফোর্সের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ কোটি ডলার।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, এই অনুদান কার্যকর করতে হলে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে, কারণ রাশিয়া এখনও এই জব্দ প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে মনে করে এবং এর আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ করার এবং ইউক্রেনের জন্য তা বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব দিলে, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মস্কোতে ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে ২৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করে। ফাঁস হওয়া শান্তি পরিকল্পনার কিছু খসড়ায় প্রস্তাব ছিল যে, রাশিয়ার মোট জব্দকৃত সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ইউক্রেন পুনর্গঠনে এবং বাকি অর্থ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া বিনিয়োগ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এনএসএফ