আন্তর্জাতিক

গাজা শহর ও আশেপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ২২শে আগস্ট ২০২৫ ০৪:০৭:২৬ অপরাহ্ন
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) আজ প্রথমবারের মতো গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোক, অনাহার, চরম দারিদ্র্য এবং প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সমন্বয়ে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে।

 

একই সঙ্গে জাতিসংঘের চারটি প্রধান সংস্থা-খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), ইউনিসেফ (UNICEF), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)—অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ খুলে দেওয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে।

 

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরের দুই বছর বয়সী ইয়াজানের মাধ্যমে। তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ইয়াজানের মা নাইমা বলেন, "আমরা গত দুই মাস ধরে কোনো আটা বা খাদ্য সহায়তা পাইনি।" ছেঁড়া ফোমের উপর বসে থাকা ইয়াজানের শীর্ণ শরীর এবং ক্লান্ত চোখ তীব্র ক্ষুধার ভয়াবহতাকে তুলে ধরে। 

 

ইউনিসেফের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির পর থেকে গাজায় শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার চারগুণ বেড়েছে।

 

আইপিসি-র নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোতে গাজা গভর্নরেট থেকে দেইর আল-বালাহ এবং খান ইউনিস গভর্নরেটেও ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ, গাজা উপত্যকাজুড়ে ৬ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সর্বোচ্চ স্তর "বিপর্যয়কর" (আইপিসি ফেজ ৫)-এর সম্মুখীন হবে। এছাড়াও, ১১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ "জরুরি" (ফেজ ৪) এবং প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ "সংকট" (ফেজ ৩) পরিস্থিতিতে থাকবে।

 

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, "যেকোনো মূল্যে দুর্ভিক্ষ থামাতে হবে।" তারা গাজা সিটিতে তীব্রতর সামরিক অভিযানের হুমকিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা চলমান দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের জন্য আরও বিধ্বংসী পরিণতি বয়ে আনবে। বিবৃতিতে বলা হয়, অসুস্থ ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীসহ অনেকেই সেখান থেকে সরে যেতে অক্ষম।

 

উত্তর গাজার পরিস্থিতি গাজা সিটির মতোই বা তার চেয়েও খারাপ বলে অনুমান করা হলেও, সেখানে ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় আইপিসি শ্রেণীবিভাগ করা সম্ভব হয়নি। রাফাহ শহরটি মূলত জনশূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি।

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন