পুলিশের ধারণা

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুনের অভিযুক্ত সেই ফোরকান ঝাঁপ দিয়েছে পদ্মায়!

গাজীপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মরদেহ ফোরকানের হতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। এদিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সিআইডি পদ্মা সেতুর ওপর থেকে তার ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি। পরে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, সেগুলো পলাতক ফোরকানের।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুর ওপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় ছিল। পরবর্তীতে আজ পদ্মা নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মরদেহটি ফোরকানের হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

 

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

 

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

 

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনেরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল।

 

ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন