গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় মাহাবুল হোসেন রনি (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই তরুণ।
নিহত মাহাবুল হোসেন রনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। সে ভবানীপুরের খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদরাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। সে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করত।
পিবিআই জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রনি। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পিবিআই গাজীপুর জেলা এর তদন্তভার গ্রহণ করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ছাব্বির জানায়, ঘটনার দিন রাতে সে জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় মাদ্রাসাছাত্র রনি সেখানে এসে তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনা গোপন করার জন্য সে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমেই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল