জেলার সংবাদ

গাজীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে মরদেহ দাফনে বাধা, সালিশেও মিলল না সমাধান

গাজীপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে এক বৃদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মাতব্বর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিন-রাত কয়েক দফা সালিশ বৈঠক করেও দাফনের অনুমতি বা কোনো সুরাহা করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে নির্ঘুম রাত কাটানোর পর বসতবাড়ির উঠানেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা।

জানা যায়, মান্দাই সম্প্রদায়ের অনুসারী শ্রী মেনোকা (৬০) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মারা যান। তিনি আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। গোপাল কয়েক যুগের বেশি সময় ধরে ওই গ্রামে এক শতাংশ জমি কিনে একটি খুপরি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে তারা আরও এক শতাংশ জমি কেনেন। জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নিয়ে জমির টাকা পরিশোধ করা হলেও নামজারি (খারিজ) জটিলতায় জমিটি লিখে নিতে পারেননি গোপাল। এখন ছফর উদ্দিন সেই জমি বিক্রির কথা অস্বীকার করছেন, যার কারণে ঘরের পেছনেও মেনোকাকে সমাহিত করার জায়গা মিলছে না।

 

বুধবার রাত ১১টার দিকেও নিহত মেনোকার মরদেহ বসতবাড়ির বারান্দায় রেখে স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বসতবাড়ি ঘেঁষে কবর খননে ছফর উদ্দিন বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতের ভাই নিধারণ জানান, মারা গেলে যেন ঘরের পাশেই মাটি দেওয়া যায়, সেই আশাতেই জমিটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেন।
 

নিহত মেনোকার ছেলে শ্রী সুনিল আক্ষেপ করে বলেন, ’আমরা নিচু জাতের মানুষ বলে মায়ের মরদেহ এভাবে পড়ে আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, থানা-পুলিশ- সবার কাছে ঘুরেও কোনো সমাধান পাইনি। বাড়ির উঠানে ঘরের দেয়াল ঘেঁষে কবর খনন করতে গেলেও তারা বাধা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে এখন উঠানেই দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছফর উদ্দিন জমি বিক্রির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ’আমি তার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি, কোনো টাকা-পয়সাও নিইনি। আমার জমিতে আমি দাফন করতে দেব না।’

 

এ বিষয়ে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ছফর উদ্দিনকে অনেক বোঝানো হলেও তিনি কারও কথা শোনেননি, যার কারণে কোনো সমাধান হয়নি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন