বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৬০, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ

গাজীপু‌র প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে ৮ দফা দাবিতে যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সংঘটিত এই ঘটনায় শিল্প পুলিশের সদস্য ও শ্রমিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা ডেনিমস লিঃ কারখানার শ্রমিকরা বেশ কিছুদিন ধরে ৮ দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শনিবার সকালে তারা এসব দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কারখানার ডিরেক্টর কাজল কান্তির বাধ্যতামূলক পদত্যাগ, ২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া অর্থ প্রদান এবং ভবিষ্যতে ডিসেম্বরেই তা পরিশোধ করা। এছাড়া টিফিন বিল বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা, রাত ১০টার পর নাইট বিল ১৫০ টাকা, অপারেটর ও হেলপার উভয়ের হাজিরা বোনাস ১০০০ টাকা এবং প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানান তারা। দাবির তালিকায় আরও ছিল জরুরি প্রয়োজনে ছুটি মঞ্জুর, ফ্লোরে স্টাফদের অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ বন্ধ, অভিযুক্ত স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ছাঁটাই না করা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ তাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে পুলিশ ডেকে আনে। পুলিশ কোনো আলোচনা ছাড়াই টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্যমতে, শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পদক্ষেপ নিলে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, এতে শিল্প পুলিশের অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হন।

 

সংঘর্ষের ঘটনার পর সকাল ১১টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে নোটিশ টানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান জানান, উশৃঙ্খল শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন