গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সাইফুল ইসলাম (৪৯) হত্যাকাণ্ডের ২২ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পূর্ববিরোধ ও মাদক ব্যবসার জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রেজাউল করিম (৫০), নাঈম মিয়া (২৫) এবং আবু তাহের (৩২)। এদের মধ্যে আবু তাহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২ জুন সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তরসোম এলাকার বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডল বিকৃত করে দিয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম ৩ জুন কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) হস্তান্তর করেন। এরপর ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল ও আবু তাহের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিহত সাইফুলের সঙ্গে রেজাউলের মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে গত ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাইফুলকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে মরদেহটি বেড়িবাঁধ সড়কে ফেলে যায় তারা।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবিসি/আরএসএল