প্রকৃতির প্রতিকূলতা এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ফিলিপিন্সের এক দম্পতি। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ম্যানিলার উত্তরে অবস্থিত হাগোনয় শহরের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট গির্জায় কোমর-সমান ঘোলাটে বন্যার জলের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে লিয়ান লিয়েজা গালাং ও গিলবার্ট চিকো নামের ত্রিশোর্ধ্ব জুটির বিবাহ অনুষ্ঠান।
বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় প্যারিশ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার পরামর্শ দিলেও, নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন ওই দম্পতি। এ প্রসঙ্গে ওয়েডিং ফটোগ্রাফার মিকো রে আলফোনসো এএফপিকে জানান, ‘বিয়েটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ তাদের নিজেদেরই। গির্জাটি প্রায় এক মাস ধরে আংশিকভাবে পানির নিচে রয়েছে।’
জানা গেছে, কনে লিয়ান লিয়েজা একটি উঁচু চ্যাসিসযুক্ত রিকশায় চড়ে গির্জার প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং জল থেকে পোশাক বাঁচাতে গাউনের ট্রেইনটি ছোট করে নেন। ঐতিহ্যবাহী সাজে হাতে সাদা ফুলের তোড়া এবং কাঁধ-খোলা সাদা গাউনে কনে যখন সাবধানে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্যারিশের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ফুলে সাজানো বেঞ্চের সামনে কনেকে তার বাবা-মা জড়িয়ে ধরছেন। এছাড়া কোমরসমান পানিতে হেঁটে এক বালককে বিয়ের আংটি হাতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসে ফিলিপিন্সের উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এমন দুযোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও মাত্র ১৫ জন অতিথির উপস্থিতিতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সাদামাটা এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ফটোগ্রাফার আলফোনসো আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘তারা একে অপরকে ভালোবাসে। কোনো কিছুই তাদের মিলনকে আটকাতে পারবে না।’
এই ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক বিয়েটি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের অদম্য জেদ এবং ভালোবাসার শক্তিকে নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪
ডিবিসি/এমএনকে