পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই আশ্রয়নের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন স্বামী। এই ঘটনার দুইদিন পর আদালতে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সেই স্বামীকে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সিঙ্গিপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম শাহ আলম শেখ (বাবু)। গত সোমবার রাতে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর, বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে তালাক দেন স্ত্রী তাসলিমা খানম।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সিঙ্গিপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্রে একটি ঘর বরাদ্দ পান ভূমিহীন তাসলিমা খানম। এরপর থেকে ওই ঘরেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলে আসছিলো। প্রায়শই স্বামী শাহ আলমের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন তাসলিমা।
এরই জের ধরে গত সোমবার রাতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন শাহ আলম। পরে স্থানীয়রা প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার দুইদিন পর বুধবার আদালতে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্বামী শাহ আলমকে তালাক দেন স্ত্রী তাসলিমা।
তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্ত্রী তাছলিমা খানম বলেন, ‘স্বামী শাহ আলম শেখ যা রোজগার করে, সেই টাকা দিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করে। সে ভরণ-পোষণ তো দেয়ই না, বরং নেশা করে উল্টো প্রায়ই মারধর করে। যে ব্যক্তি নিজের বসত ঘরে আগুন দিতে পারে, তার সাথে আর বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানিয়ে নেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ঘরে আগুন দেয়ার মধ্যে দিয়ে সে সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাই আদালতে গিয়ে আইনানুগ ভাবে তাকে তালাক দিয়েছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী শাহ আলম শেখের (বাবু) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম জানান, সরকারি যেকোনো স্থাপনায় আগুন দেয়া একটি গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিবিসি/এমএনকে