চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মাঠে গড়াচ্ছে না। টুর্নামেন্টটি না হওয়ায় আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়া ক্রিকেটারদের এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ক্রিকেটাররা।
সাময়িক ক্ষতিপূরণের বদলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যেন দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়, এমন স্থায়ী কাঠামোর দাবি জানান তারা। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটারদের সেই দাবি মেনে নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের চার টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি বাড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে বৈঠকের পর আজ মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানান বোর্ড সভাপতি।
তিনি উল্লেখ করেন, কোয়াবের সিনিয়র ক্রিকেটার ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডের এই পদক্ষেপে খেলোয়াড়রা ভীষণ সন্তুষ্ট। বিপিএল ও ডিপিএলের বাইরে প্রতি মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের ও টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও এক দিনের টুর্নামেন্ট নিয়মিত মাঠে গড়াবে, যেখানে ক্রিকেটাররা নতুন কাঠামোর এই বাড়তি ম্যাচ ফি পাবেন।
ছেলেদের ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা, যা পরবর্তীতে ১ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হলেও এখন থেকে খেলোয়াড়রা মাঠে নামলেই প্রতি ম্যাচে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ম্যাচ ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা আগের মতো থাকলেও প্রথম শ্রেণি ও ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা শতভাগ বাড়ছে।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটে তিন দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে এবং টেস্টের প্রস্তুতির জন্য ম্যাচগুলোকে চার দিনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের ৫০ ওভারের সংস্করণের ম্যাচ ফি ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ফি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছে বিসিবি।