বিবিধ

ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে যা যা করণীয়

ডিবিসি নিউজ

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ২৬শে মে ২০২৪ ১০:৪০:০৮ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে আজ (২৬ মে) সন্ধ্যা/মধ্যরাত নাগাদ মোংলার নিকট দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১০ এর মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ধরনের বড় দুর্যোগের আগে, দুর্যোগের সময় এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, চলুন জেনে নেওয়া যাক।


ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে করণীয়-

১. সর্বপ্রথমে সতর্কবার্তায় নজর রাখুন। এটি আপনাকে ঘূর্ণিঝড়জনিত জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত রাখবে। দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন।
 

২. তথ্যটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। গুজব এড়িয়ে চলুন এবং তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। এমনটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করবে।
 

৩. যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুন। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিন। ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ, ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত করতে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।
 

৪. উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল স্থাপন করুন, যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে।
 

৫. জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকাল, দুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুন।
 

৬. সম্ভব হলে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিত্সার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখুন।
 

৭. জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন।
 

৮. বাড়িতে ইলেকট্রিকের সব ধরনের জিনিস সাবধানে রাখতে হবে। যেসব যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখা সম্ভব সেগুলো ঝড় আসার আগেই খুলে রাখতে হবে। মোবাইল ফোন, টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ এবং এ জাতীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতির প্লাগ লাগিয়ে না রেখে খুলে রাখুন। নয়তো ঝড়ের সময় এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


৯. ঝড়ের পরে সব ধরনের খাবার সহজলভ্য নাও হতে পারে। তাই ঝড়ের আগেই শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ করে রাখুন। ফ্রিজে রাখা যায় এমন খাবার বেশি সংরক্ষণ করতে যাবেন না। কারণ, বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হবে। তাই চেষ্টা করুন বাইরে দীর্ঘদিন ভালো থাকে এমন শুকনো ধরনের খাবার সংরক্ষণ করার। সেইসঙ্গে বাড়িতে প্রয়োজনীয় ওষুধও এনে রাখুন।
 

১০. প্রবল বাতাসে উড়ে যেতে পারে, এমন জিনিসপত্র একটি কক্ষে নিরাপদে রাখুন। এবং বিশেষ খাবার দরকার হয়, এমন শিশু ও বৃদ্ধদের সেটি দেয়ার ব্যবস্থা করুন।
 

১১. আপনার এলাকার জন্য ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা দেওয়া হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাবেন, তবে রেডিওর সতর্কবার্তার বিষয়ে সজাগ থাকবেন।পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সজাগ থাকুন। কারণ, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মানে হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদের শঙ্কা আছে।
 

ঘূর্ণিঝড়ের সময় করণীয়-
 

বাতাস শান্ত হয়ে গেছে মনে হলেও ঘর থেকে বের হবেন না। বাতাসের গতিবেগ ফের বাড়তে পারে এবং তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণার আগে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন।
 

বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশনা পেলে করণীয়-
 

আগামী কয়েক দিনের জন্য পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিন। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা বৃদ্ধদের জন্য বিশেষ খাবার। আপনার এলাকার জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হন। সম্পত্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিন। আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ছেড়ে না যেতে বলার আগে আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকুন।


ঝড় থেমে যাওয়ার পর করণীয়-
 

১. বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার আগ পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করুন।
 

২. প্রয়োজনীয় টিকা নিন।
 

৩. ল্যাম্প পোস্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া তার এড়িয়ে চলুন।
 

৪. গাড়ি চালাতে হলে তা সতর্কতার সঙ্গে করুন।
 

৫. বাড়িতে গিয়ে আঙিনা থেকে বর্জ্য পদার্থ দ্রুত পরিষ্কার করুন।
 

৬. ঝড়ে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান।

ডিবিসি/আরপিকে

আরও পড়ুন