জেলার সংবাদ

চট্টগ্রামে মায়ের আত্মহত্যার মামলায় আসামিদের সঙ্গে কারাগারে দুই শিশু

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে এই আদেশের পর সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। পরিবারের আর কোনো অভিভাবক না থাকায় আসামিদের সঙ্গেই জেলহাজতে যেতে হয়েছে নিহত মুক্তার আড়াই বছরের ছেলে আরাফ ও মাত্র সাত মাস বয়সী কন্যা জাইফাকে।

বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মামলার তিন আসামি। তারা হলেন-নিহত মুক্তার স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং ননদ নাদিয়া আক্তার। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ জানান, শিশু দুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আদালতে মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ভিকটিমের দুই নাবালক সন্তান বর্তমানে আসামিদের হেফাজতেই রয়েছে। শিশু দুটির দেখাশোনা করার মতো অন্য কোনো অভিভাবক বাইরে নেই। কিন্তু আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।’

 

জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর অবুঝ দুই শিশু আরাফ ও জাইফাকে তাদের বাবা, দাদি ও ফুফুর সঙ্গে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে মায়ের মৃত্যুর মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে শিশুদের কারাগারে যাওয়ার এই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশে স্বামীর বাড়ির নিজ কক্ষ থেকে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন