বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের চলমান সংকট নিরসনে পারস্পরিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকরা। তারা বলেছেন, একতাবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই মুসলিম বিশ্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে নগরীর বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে 'মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় করণীয়' শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাইতুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শেখ আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সাইয়্যেদ মাহদী আলীযাদেহ মুসাভী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী মৌলায়ী অরনি, ইরানের কোম নগরীর ইসলামিক সেমিনারীর শিক্ষক ও গবেষক সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা কাসেম শাবানকারী। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ইযহারুল ইসলাম চৌধুরী।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করতে পারে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইরানের ইসলামী বিপ্লব নানা আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধ মুসলিম বিশ্ব গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে একমত পোষণ করেন আলোচকরা। পাশাপাশি সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ডিবিসি/এসএফএল