বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো. আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি আবীর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং ৩৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। 

 

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী, যা ভারতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘটানো হয়েছে।  

 

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় দীর্ঘ যুক্তিতর্ক ও ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেন।মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। 

 

এই ঘটনায় পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির তাকে অপহরণ করেছিলেন। পরে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

 

২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই মামলায় আবিরের সাথে তাঁর ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়। তবে সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশটি বর্তমানে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন