চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শনিবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ‘১(ক)’ শ্রেণির অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই)। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী যানবাহন এই এলাকায় চলাচল করে। বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই প্রেক্ষাপটে সিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ক্ষমতাবলে বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড় ও সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দরসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের জমায়েত, অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে, এনসিটি (NCT) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর ও আদালতের রায়ের প্রতিবাদে রোববার বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর আগে শনিবারও তারা কর্মবিরতি পালন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে চার কর্মচারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পানগাঁওয়ে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিস চলাকালে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিবিসি/পিআরএএন