জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দরের সব জায়গা ২ মাসের মধ্যে দখলমুক্ত হবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

বাসস

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আগামী দুই মাসের মধ্যে দখলকৃত সব জায়গা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বন্দরকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আজ জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা জানান।

শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জায়গা অবৈধভাবে লিজ দেওয়া ও দখলের বিষয়টি তুলে ধরে সেগুলো দ্রুত উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চান।

 

জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকটি জায়গার লিজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনটি জায়গার লিজ বাতিলের পর এর মধ্যে দুটি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। অপর জায়গার বিষয়টি আদালতে রয়েছে।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু জায়গা নিয়ে রেল মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরের সময় বিষয়টি বিস্তারিত শুনে তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আদালতে থাকা বিষয়গুলো আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো জায়গা আর দখলকৃত থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে শেখ রবিউল বলেন, বর্তমানে কোনো জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বার্থ বা ডিপ সিতে অবস্থানরত জাহাজ দুই দিনের মধ্যে পণ্য খালাস ও পুনরায় পণ্য লোড করে ছেড়ে যেতে পারছে। আগে এ কাজে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও কনটেইনার ওঠানামা করছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানে পরিচালিত হচ্ছে। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালও পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

এদিকে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, দেশের সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে ড্রেজিং চলছে।

 

ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দূষণের উৎস চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানীর চারপাশে পাঁচটি নদী দূষণমুক্ত করতে ওয়াসা, দুই সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

 

ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে এ প্রকল্পে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশের রিং ওয়াটারওয়েতে ওয়াটার বাস চালুর আশা করা হচ্ছে।

 

সংরক্ষিত নারী আসন-৩৯-এর বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নদী দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ দখল চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদের জন্য সহযোগিতা চায়। তবে সরাসরি দখল উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা বিআইডব্লিউটিএর নেই। স্থানীয় প্রশাসনের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন