চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা সরকারকে এই চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। দাবি মানা না হলে আগামী শনিবার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার অফিস ও অপারেশনাল—উভয় কার্যক্রমই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। এতে কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নিয়ে ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। কর্মসূচির বিষয়ে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ বাতিল না করে, তবে তারা শনি ও রোববার বন্দর অচল করে দিতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের নেতা ইব্রাহীম খোকন সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আগামী ১৩ দিন পরেই দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে কেন তড়িঘড়ি করে বন্দর বিদেশি হাতে তুলে দিতে হবে? তিনি মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ রুটিন দায়িত্ব পালন করা, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া নয়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেন, সরকার গায়ের জোরে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পিপিপির অধীনে বিদ্যমান কোনো স্থাপনা লিজ দেওয়ার বিধি নেই, অথচ সরকার সেটিই করছে। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আমেরিকা, চীন ও ভারতের মতো শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণেই বন্দর বিদেশিদের দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রভাব বিস্তার করে চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ও দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. হুমায়ুন কবীর, মোজাহের হোসেন শওকত, আনোয়ারুল আজিম রিংকু, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রউফ লিটন, শেখ ছানুয়ার মিয়া, শামসুর রহমান স্বপন, আকতার হোসেন ও মঞ্জুরুল পারভেজ সুমনসহ আরও অনেকে।
ডিবিসি/পিআরএএন