ঋণ খেলাপি হওয়ায়

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ফলে তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না এবং তিনি শপথ নিতে পারবেন না। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিল আদালত। আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। শুনানিতে আরও অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম। এছাড়া গত ২০ জুন আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন ব্যাংক এশিয়া ও জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগকারী পক্ষ হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করলেও ২৭ জানুয়ারি তা খারিজ হয়ে যায় এবং আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা ফিরে পান।

 

পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী, যা গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। সেই আদেশে বলা হয়েছিল, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে সফল হলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন, তবে আদালতের নির্দেশে ফলাফল স্থগিত থাকে।

 

লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল আবেদন করেন এবং ২৮ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপরও শুনানি শুরু হয়। চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দিলেন।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন