ইংল্যান্ড সফরে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই দল ও কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রথম দুটি টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর এমন আকস্মিক রদবদলের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তিনি একে নির্বাচক কমিটির ইতিহাসের ‘সবচেয়ে হতবাক করার মতো সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সিরিজের মাঝপথে দল থেকে ৭ জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে ডাকা হয়েছে আরও ৭ জনকে। এর মধ্যে ৫ জন খেলোয়াড় একেবারেই নতুন মুখ। বড় এই পরিবর্তনের ছাঁটে পড়েছেন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও তার সহকারী ওমর গুলও। তাদের পরিবর্তে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের কোচ মাইক হেসন ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার অ্যাশলে নফকে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে পাকিস্তান।
এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শহীদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, টেস্ট ম্যাচের স্কোয়াডে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। মাত্র পাঁচটি টেস্ট শেষেই কোচকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকেও তিনি অপরিকল্পিত ও অদ্ভুত মানসিকতা বলে উল্লেখ করেছেন।
বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আঘা, আলী উসমান ও খুররম শাহজাদ চলতি সিরিজে খেলেছেন। আর কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেয়েই দেশে ফিরে গেছেন আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইজ জাফর। নতুন ডাক পাওয়াদের মধ্যে ওপেনার সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ ফজলের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাকি পাঁচজন—আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাইদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজউল্লাহ প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পেলেন।
পিসিবির এই কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে দলটির সাবেক চেয়ারম্যান ও অধিনায়ক রমিজ রাজা বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হলেও এটি আসলে স্বাভাবিক নয়। তার মতে, এসব কাণ্ড থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
এর বাইরেও মাঠের বাইরের নানান বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে দলটি। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ক্ল্যারেন্স হাউসে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। এর আগে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন স্কাই নিউজে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অধিনায়ক ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় সিরিজ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পিসিবি। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি মাঠে গড়ায় এবং তৎকালীন অধিনায়ক বাবর আজম ও কোচ সরফরাজ আহমেদ দাবি করেছিলেন যে এই বয়কট পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।
সুত্র: ইয়াহু স্পোর্টস
ডিবিসি/এসভিএন