চলমান সংঘাতের ৫ শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইরান। বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এই দাবি করেন।
একইসঙ্গে তিনি এ যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'অন্যায্য' আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চরম মূল্য চোকাতে হবে।
গত শনিবার ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে এ সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা হয়। হামলায় তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিরাও প্রাণ হারান। এছাড়া, ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধে নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ইরানি কমান্ডারও এ যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আলী লারিজানি তার বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আচরণকে 'ভাঁড়ামো' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমেরিকান জনগণকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধে টেনে এনেছেন।
ট্রাম্পের নীতির দিকে ইঙ্গিত করে লারিজানি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহতের পর এখন ট্রাম্পকে হিসাব করতে হবে তার কাছে আমেরিকা আগে, নাকি ইসরায়েল। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা-ও তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী চলমান এই যুদ্ধের প্রথম চার দিনে অন্তত ১,০৫০ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খামেনি হত্যার বদলা নিতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানের নেতৃত্ব।
লারিজানি তার বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করেছে এবং এই লড়াইয়ের গল্প চলতেই থাকবে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এএমটি