বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি আর নেই। আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি হিন্দি। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি সাংবাদিকের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় তিনি বিবিসির ভারত ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি থেকে অবসর গ্রহণ করলেও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে তিনি আমৃত্যু লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্ক টালির ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। সে সময় তিনি বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবির এবং বিভিন্ন রণাঙ্গন ঘুরে বাঙালিদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। তার পাঠানো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে এক বিশাল ভূমিকা রেখেছিল। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানজনক ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়াও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য স্বদেশ যুক্তরাজ্য থেকে তিনি নাইটহুড খেতাব অর্জন করেন।
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জে এক ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। তার শৈশব কাটে কলকাতায়, তবে ৯ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং সেখানেই স্কুল ও কলেজের পাঠ চুকান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছুদিন সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন। তবে তা ভালো না লাগায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও ধর্ম বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, যদিও তা শেষ করেননি।
১৯৬৪ সালে মার্ক টালি বিবিসিতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৫ সালে দায়িত্ব নিয়ে দিল্লিতে ফিরে আসেন। দীর্ঘ ২০ বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিবিসির ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী মার্গারট এবং চার সন্তান লন্ডনে বসবাস করলেও, এই ভারতপ্রেমী সাংবাদিক আজীবন ভারতেই থেকে গিয়েছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সুলেখক ছিলেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অমৃতসর: মিসেস গান্ধীস লাস্ট ব্যাটল’, ‘রাজ টু রাজিব: ফর্টি ইয়ার্স অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স’, ‘নো ফুল স্টপ ইন ইন্ডিয়া’, ‘আনএন্ডিং জার্নি’, ‘ইন্ডিয়া: দ্য রোড অ্যাহেড’ এবং ‘হার্ট অব ইন্ডিয়া’।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এএমটি