মুসলিম ধর্মালম্বী বন্ধু কামাল হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে এক নজর দেখতে জানাজার নামাজে এসে হাজির হন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার প্রদীপ সরকার। এসময় জানাজার এক পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুর লাশের দিকে অপলক নজরে তাকিয়ে থাকেন প্রদীপ। যেন বলতে চাচ্ছিলেন বন্ধুত্বে নেই জাত-পাতের বিভেদ, সুখে-দুঃখে পাশে থাকা বন্ধুত্বই কখনো কখনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে।
জানা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন কচুয়া উপজেলার ৪নং পালাখাল ইউনিয়নের দহুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
কামালের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী দোয়াটি গ্রামের বন্ধু সনাতন ধর্মালম্বী প্রদীপ সরকার। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চারপাশে যখন সবাই প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর, তখন প্রদীপ সরকারের নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা আর অশ্রুসিক্ত চোখ যেন বলে দিচ্ছিল বন্ধু হারানোর বেদনা কোনো ধর্মের সীমারেখায় আটকে থাকে না।
জীবনের এক সময় হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কেটেছে তাদের জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু কে জানত, একদিন সেই প্রিয় বন্ধুকেই এভাবে শেষ বিদায় জানাতে হবে! কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহময়ী স্বভাবের মানুষ।
বৃহস্পতিবার তার জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি। ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়া এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই আবেগের জন্ম দেয়।
জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকার যেন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন পুরোনো স্মৃতিতে। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে এসে নীরবে তাকিয়ে ছিলেন।
প্রদীপ সরকারের এই উপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিলো, মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক ধর্মের পরিচয়ের চেয়েও বড়। একজন মুসলিম বন্ধুর শেষ বিদায়ে একজন হিন্দু বন্ধুর অশ্রুসিক্ত উপস্থিতি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন