বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

চাঁদপুরে রাসেল ভাইপারের কামড় খেয়ে সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক

চাঁদপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার। এবার মেঘনা নদীর পাড় থেকে এই সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে কামড়ের শিকার হয়েছেন মো. সোহেল (৩১) নামে এক যুবক। কামড় খাওয়ার পরও সেই সাপটিকে প্লাস্টিকের কৌটায় বন্দি করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল ওই এলাকার সেলিম প্রধানের ছেলে।


সোহেল জানান, সকালে মেঘনা নদীর পাড়ে নিজের নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি মাছ ধরার জালে বড় আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপ আটকা পড়ে থাকতে দেখেন। সাপটি জাল ছিঁড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি সেটিকে জাল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সাপটিকে ধরে একটি পলিথিন ব্যাগে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সাপটিকে প্লাস্টিকের কৌটায় নিরাপদভাবে আটকে রেখে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে দুপুরে তিনি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও চরাঞ্চল বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এই এলাকায় বেশ কিছু রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছিল। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে থাকায় সাপের উপদ্রব আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।


এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। বর্ষা মৌসুমে কৃষক ও জেলেদের সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কামড়ালে কোনোভাবেই ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না, সরাসরি হাসপাতালে যেতে হবে। যেকোনো প্রয়োজনে আমি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।


চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। একজন রোগীকে প্রথম ধাপে ১০টি এবং প্রয়োজনভেদে আরও ১০টি অ্যান্টিভেনম দিতে হয়। বর্তমানে আমাদের কাছে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন আছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সাপে কাটা রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন