জেলার সংবাদ, কৃষি

চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের গবেষণায় দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ

তালহা জুবায়ের, চাঁদপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ১৬ই জুলাই ২০২০ ০২:১১:৩৭ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইনস্টিটিউটটি মাছের উন্নত জাতসহ প্রায় ২০টি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) চাঁদপুর নদী কেন্দ্র ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শহরের ওয়ারল্যাস বাজার মোড় এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ১৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে চাঁদপুর নদীকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। মৎস্য খাতে নানা উদ্ভাবন আর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত করে নদী কেন্দ্র ৩৫ বছর পার করেছে। দীর্ঘ সময়ে এই ইনস্টিটিউটে গবেষণা করে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছের উন্নত জাতসহ প্রায় ২০টি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। যা দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে রাখছে অসামান্য অবদান। বিশেষ করে এই প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্ঠার ফলে মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

একটা সময় বাংলাদেশে হুমকির মুখে থাকা ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএফআরআই চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের গবেষকরা নিরলস গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন। ইলিশ নিয়ে গবেষণা কাজ করে অল্প কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে দেশে, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিরল। ইলিশ উৎপাদলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। ইলিশ গবেষণায় সফলতা পাওয়ার পাশাপাশি ২০১৭ সালে ইলিশের জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন (জিআই) সত্ব লাভ করেছে বাংলাদেশ। নতুন নতুন পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে চলছে এই প্রতিষ্ঠান। এই নদী কেন্দ্রে ৪০টি স্থায়ী পুকুর, একটি হ্যাচারি এবং নদীতে জরিপকার্য ও পরীক্ষামূলকভাবে মাছ ধরার জন্য গবেষণা সরঞ্জামসহ একটি নৌযান রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, নদীর পানির মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, টেকনোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ও লিমানোলজিক্যাল ডিজিজ ল্যাব নামে একই সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে এখানে। ফলে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরসহ পাঁচটি কেন্দ্রের অন্যতম নদীকেন্দ্র চাঁদপুরকে করা হয়। চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের উপকেন্দ্র হিসেবে আরো দুটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এগুলো হলো- রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত নদী উপকেন্দ্র রাঙ্গামাটি ও পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত নদী উপকেন্দ্র খেপুপাড়া।

১৯৮৪ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বা জাতীয় মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন মৎস্য প্রজাতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে এ কেন্দ্রে গবেষণা পরিচালিত হয়ে থাকে। এ কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে ইলিশ সম্পদের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন উৎস চিহ্নিতকরণ, পেনে মাছ চাষ ও পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের অধীনস্থ রাঙ্গামাটির নদী উপকেন্দ্র থেকে কাপ্তাই লেকে মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা এবং খেপুপাড়াস্থ উপকেন্দ্র ইতে ইলিশ মাছের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন মৎস্য প্রজাতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০২০ সাল পর্যন্ত বিএফআরআই চাঁদপুর নদী কেন্দ্র গবেষণা করে মাছের উন্নত জাতসহ আধুনিক উপায়ে মাছ চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বিশেষ করে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন ইলিশ মাছের উপর গবেষণা করে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। এতে করে দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে ইলিশ মাছ। চাঁদপুর নদী কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে- ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের কৌশল ও ব্যবস্থাপনা, পুকুরে পাঙ্গাস চাষে একক ও মিশ্র চাষাবাদ প্রযুক্তি, থাই পাঙ্গাস চাষের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন, পেনে মাছ চাষের কলাকৌশল, গৃহাঙ্গন হ্যাচারিতে গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন, পুকুরে গলদা চিংড়ির একক ও মিশ্র চাষ, ধান ক্ষেতে মাছ চাষ, মাছ ও জলজ পরিবেশের ওপর কীটনাশকের বিষক্রিয়া নিরূপণ, কাপ্তাই হ্রদের জৈব ব্যবস্থাপনা ও জলাশয় তাত্ত্বিক সমীক্ষা, খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ, নদ-নদীর পানির নবায়ন ও দূষণ বিষয়ক সমীক্ষা, ইলিশ মাছ গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা, পাঙ্গাস মাছের প্রতিপালন ও গবেষণা, থাই পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ প্রমুখ।

নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুফল সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে। দেশে মৎস্য সম্পদের যথেষ্ট উন্নতি সাধন হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয় এবং স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৫ম স্থান অর্জন করেছে।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশের সকল মাছের উৎপাদন হয়েছে ৪২ লক্ষ ৭৭ হাজার মেট্টিক টন। যার মধ্যে ইলিশের উৎপাদন ছিলো ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। চাঁদপুর জেলায় মাছের চাহিদা ২০১৮-১৯ সালের হিসাব মতে, চাঁদপুর জেলায় ২৫ লাখ মানুষের বছরে মাছের চাহিদা রয়েছে ৫৬ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন। জেলায় মোট মাছ উৎপাদন হয় ৯৯ হাজার ৯৮৭ মেট্রিক টন।

দেশের মৎস্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদপুর নদী কেন্দ্র একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। ১৯৯৫ সালে থাই পাঙ্গাস মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য রৌপ্যপদক, ২০১০ সালে রুই মাছের উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য স্বর্ণপদক এবং ২০১৮ সালে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখায় স্বর্ণপদক লাভ করে চাঁদপুর নদী কেন্দ্র। গবেষণার ফলে ইলিশ উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে ‘সিটি অব হিলসা’ নামে। যা চাঁদপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। দেশে সর্বপ্রথম থাই পাঙ্গাসের সফল প্রজনন, ইলিশ মাছের ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং খাঁচায় মাছ চাষ উদ্ভাবন করেছেন এই নদী কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য সম্পদ জরিপ পদ্ধতি (এফআরএসএস) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার আগে ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিলো ২.১৪ লক্ষ মে. টন, ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.১৯ লক্ষ মে. টনে, ২০০০-২০২১ অর্থ বছরে উৎপাদন হয় ২.২৯ লক্ষ মে. টন, ২০০১-২০০২ অর্থ বছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ২.২ লক্ষ মে. টন এবং ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন আরো কমে দাঁড়ায় ১.৯৯ লক্ষ মে. টন।

পরবর্তীতে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রমাগতভাবে। এসময় ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন হয় ৩.৫১ লক্ষ মে. টন, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩.৮৫ লক্ষ মে. টনে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৩.৮৭ লক্ষ মে. টনে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩.৯৪ লক্ষ মে. টন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ লক্ষ মে. টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন এসে দাঁড়ায় ৫.১৭ লক্ষ মেট্রিক টনে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও তিন দশক ধরে ইলিশ নিয়ে গবেষণাকারী দেশের একমাত্র ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণায় এই ইনস্টিটিউট বেশ ক’টি নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এরমধ্যে ইলিশ মাছ গবেষণা ও খাঁচায় মাছ চাষ অন্যতম। ১৫/১৬ বছরের ইলিশ গবেষণার সফলতাকে কাজে লাগিয়ে বিএফআরআই এর নদী কেন্দ্র থেকে প্রণীত হিলশা ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান (এইচএফএমএপি) তৈরি করি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনায় মৎস্য অধিদপ্তরসহ সকল স্টেক হোল্ডারদের অংশগ্রহণের কারণে ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিই হয়নি আকারেও বড় হয়েছে। সুস্বাধু ইলিশ এখন কম-বেশি সারা বছরই পাওয়া যায় নদীতে।

ড. মো. আনিছুর রহমান আরো বলেন, অবাধ ও নির্বিচারে মা ইলিশ এবং জাটকা নিধনের ফলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকতা ব্যহত হচ্ছিলো। অপরিকল্পিতভাবে ইলিশ আহরণ করায় এক পর্যায়ে তা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছিলো। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ লক্ষ ৯৯ হাজার মেট্রিক টনে। পরবর্তীতে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ইলিশের উৎপাদন বৃ্দ্ধিতে আমরা হিলশা ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যানকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে গবেষণা অব্যাহত রাখি। এসময় ইলিশ মাছের উৎপাদন হ্রাসের দু’টি বড় কারণ খুঁজে পাই। আর তা হলো- নির্বিচারে জাটকা আহরণ এবং নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন করা। পরবর্তীতে ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে ৪টি প্রধান প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার প্রায় সাত হাজার বর্গ কিলোমিটার নদী এলাকা চিহ্নত করে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে জাটকা মাছের প্রধান ৬টি বিচরণক্ষেত্র রূপালি ইলিশের খনি হিসেবে চিহ্নিত করে তা সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। এরপর মার্চ-এপ্রিল দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ এবং আশ্বিন মাসের (অক্টোবর) পূর্ণিমা ও অমাসবশ্যাকে কেন্দ্র করে ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। চাঁদপুর নদী কেন্দ্র থেকেই ইলিশের অভয়াশ্রম চিহ্নিতকরণ, সময়সীমা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ প্রজনন অঞ্চল ও সময় নির্ধারণের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের গবেষণার ফলে ইলিশের উৎপাদন ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন ৫ লক্ষ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ইলিশ মাছের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নদ-নদীতে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায় তার ৭৫ শতাংশের বেশি পাওয়া যায় বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চাঁদপুর নদী গবেষণা কেন্দ্রে পাঁচটি গবেষণা প্রকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো হলো- ইলিশ মাছের মজুদ নিরূপন ও গবেষণা, সেমি ন্যাচারাল ব্রিডিং, হালদা নদীতে রুই-কাতল জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে নদীর পানি দূষণের প্রভাব, নদ-নদীর বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ মাছের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরুপন এবং বদ্ধ জলাশয়ে বোয়াল মাছকে অভ্যস্তকরণ ও চাষের জন্য গবেষণা। এসব গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে আমিসহ পাঁচ সদস্যের একটি গবেষক দল কাজ করে যাচ্ছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিসেস ফ্লোরা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রামানিক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনজুরুল হাসান।

ড. আনিস আরো বলেন, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণের প্রকৃতি নির্ণয়, জলজ প্রাণির ক্ষতিকর প্রভাব, হিলশা ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান্ট, জলবায়ুর পরিবর্তন ও এর প্রভাব, বোয়াল মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিকভাবে পোনা সংরক্ষণ, তেলাপিয়ার রোগ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে। ‘নদী সম্পদ সংরক্ষণ ও নদীদূষণ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে চাঁদপুর নদী কেন্দ্র কাজ করছে।

আরও পড়ুন